পড়তে পারবেন 3 মিনিটে Berger Weather Coat
  • তারেক নন, জিয়া পরিবারের অন্য কেউ হবেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
  • ফখরুলকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মহাসচিব করার পরিকল্পনা
  • ঐক্যফ্রন্টের গতিবিধি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের সিদ্ধান্ত
  • সরকার নিষিদ্ধ না করাতক জামায়াতকে ছাড়া হবে না
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

বিপর্যস্ত ও কোনঠাসা বিএনপিতে বাজতে শুরু করেছে বদলের সুর। জাতীয় নির্বাচনোত্তর দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে সব নেতাই সম্মত হয়েছেন। দুয়েক মাসের মধ্যে দলের কাউন্সিল করে নতুন-পুরনো মিলিয়ে নেতৃত্ব-কাঠামো শক্তিশালী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা।

মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনোত্তর স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন আগামী মার্চে জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পক্ষে মতামত তুলে ধরেন। এ সময় ওই বৈঠকে ভিডিও কনফারেন্সে লন্ডন থেকে যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান। তাকে লাইনে রেখেই স্থায়ী কমিটির অন্য সদস্যরা এর পক্ষে কথা বলেন। তারা বিগত সময়ে সংগঠনের বেশ কিছু ভুল পদক্ষেপ চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনের কথা বলেন। পাশাপাশি বিগত সময়ে যেসব তরুণ নেতৃত্ব উঠে এসেছে তাদের দলের গতিশীলতার স্বার্থে সম্পৃক্ত করার পক্ষে মত দেন তারা।

তবে বৈঠক প্রসঙ্গে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান জানান, সমসাময়িক পরিস্থিতিতে দলকে কীভাবে সাজানো যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় সবাই যার যার মতামত তুলে ধরেছেন। তবে এ ব্যাপারে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি এখনও।

স্থায়ী কমিটির এসব বৈঠকে উপজেলা নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত হয়। তবে দলের কেউ যদি নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তাহলে দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করে অংশ নিতে পারবেন বলেও সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখা হয়।

‘ইচ্ছেমাফিক সংবাদ সম্মেলন’ না

বিগত সময়ে হুটহাট যেকোনো নেতা ইচ্ছেমাফিক সংবাদ সম্মেলন করে অপ্রয়োজনীয় অনেক ইস্যুর অবতারণা ঘটিয়েছেন বলে আলোচনা হয় স্থায়ী কমিটিতে। নেতাদের এই প্রবণতাকে ‘আত্মঘাতী’ ও ‘বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী’ হিসেবে তুলে ধরে এ ব্যাপারে সচেতন থাকার কথা বলা হয়। পাশাপাশি এই প্রবণতা ঠেকাতে বিষয়ভিত্তিক সাতটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কমিটির নেতৃত্ব দেবেন একজন করে স্থায়ী কমিটির সদস্য। এসব কমিটি স্ব স্ব বিষয়ে সরকারের ‘অনিয়ম-ব্যর্থতা’ তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করবেন। এসব কমিটিই সংবাদ সম্মেলনের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করবে।

সতর্ক, তবে কার্যকর কর্মসূচি

বিদ্যমান বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সঙ্গতি রেখে সতর্কতার সঙ্গে কার্যকর কর্মসূচি নিয়ে এগুতে চায় বিএনপি। দলের নীতিনির্ধারকরা কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্ত করাকেই এই সময়ের সবচেয়ে জরুরি কাজ হিসেবে ভাবছেন। দলীয় শক্তি বিবেচনায় তারা একমত যে, এখনই কঠোর আন্দোলনের হঠকারিতায় যাওয়ার সুযোগ নেই। সবার আগে জেল থেকে নেতাকর্মীদের বাইরে আসার পথ করতে হবে। এরপর তাদের নিয়েই ধীরে ধীরে সংগঠন গোছাতে হবে। তবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বন্দিদশার বছর পূর্তিতে কর্মসূচি ঘোষণা করতে চায় দলটি। বিশেষ করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা এর পক্ষে বলে উঠে আসে মতামত।

ঐক্যফ্রন্টের প্রতি নজর থাকবে বিএনপির

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তো বটেই, দলের নেতাদের ঘরোয়া আলোচনাতেও এখন প্রধান ইস্যু ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকা। গত জাতীয় নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট গড়ে বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া লোকসানের কারণ হয়েছে বলে দলের স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ নেতা মত দিয়েছেন। তবে এই মতের বিপক্ষেও নিজেদের যুক্তি তুলে ধরেছেন অনেক নেতা। ঐক্যফ্রন্টের বিপক্ষের অংশটি এখনো প্রক্রিয়াটিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছে। এ বিষয় নিয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে পাল্টাপাল্টি মতামতের পর নেতারা একমত হন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরো সময় নেয়া দরকার। এই সময়ের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টের তৎপরতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের পক্ষেও মত দেন তারা। তবে নেতাদের একাংশ জানান, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি নিয়ে আন্তরিকভাবে মাঠে নামলেই কেবল ঐক্যফ্রন্ট বিএনপির বিশ্বাস অর্জন করতে পারবে। অন্যথায় নয়।

জিয়া পরিবারের অন্য কেউ

আলোচনায় দলের অস্তিত্বের স্বার্থে সংগঠন গোছানোর পাশাপাশি বিশ্বের বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে নতুন মাত্রায় সম্পর্ক স্থাপনের দিকে জোর দেয়া হয়। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে নিয়ে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর অনেকেই যে ইতিবাচক নয়, সে বিষয়েও কথা বলেন নেতারা। পাশাপাশি রাজনৈতিক আশ্রয় ও নানা আইনি জটিলতা মাথায় রেখে আপাতত তারেক রহমান নিজেকে খানিকটা আড়ালে রাখার পরামর্শের সঙ্গে একমত হয়েছেন। সে কারণেই জিয়া পরিবারের মধ্য থেকে কোনো এক সদস্যকে পূর্ণকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয়ার কথা আলোচিত হচ্ছে। এক্ষেত্রে প্রথম পছন্দ তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান হলেও তার ব্যক্তিগত অনাগ্রহের কারণে তা না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথির নামও বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সরাসরি এসব আলোচনা না হলেও, নেতারা বারবার দলীয় নেতৃত্ব ঢেলে সাজানোর কথা তোলায় মহাসচিব পদেও পরিবর্তনের আভাস মিলছে। তবে এর সবই চেয়ারপার্সনের অনুমতি মিললে করা হবে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের স্থায়ী কমিটির এক সদস্য।

জামায়াতকে ছাড়া হচ্ছে না

জামায়াত ইস্যুতে ড. কামালের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পরেও পুরো জোটের অংশীদারদের এখনই না ছাড়ার পক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির বেশিরভাগ সদস্য। তারা মনে করছেন, জামায়াতকে ছাড়তে নানামুখী চাপের অর্থ হলো, এই ইস্যুতে নতুন করে বিএনপিকে দুর্বল করা। তবে সেদিকে সতর্ক থাকবে দলটি। বরং সরকার জামায়াতকে নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত তারা এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপেই যাবে না।