Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > সবিশেষ > টানাপড়েন নেই, আশ্বস্তও নয় শরিকরা

টানাপড়েন নেই, আশ্বস্তও নয় শরিকরা

পড়তে পারবেন 2 মিনিটে
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা

টানাপড়েন নেই। নেই বিক্ষুব্ধ হওয়ার প্রকাশ্য কোনো লক্ষণ। মন্ত্রিসভাটা যে পুরোদস্তুর আওয়ামী লীগের হয়ে গেলো, তা নিয়েও আপাত কোনো বিরোধিতা নেই। কিন্তু তারপরেও কোথাও যেনো একটা খচখচানি আছে। আর আছে নীরবতা। যেনো অনেকটা শীতল বাংলাদেশের শাসকদল আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের মিত্র ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা।

বিরোধীদের ভাসিয়ে দেয়া জয় নিয়ে ভোটে জিতে আওয়ামী লীগ যে মন্ত্রিসভা গড়েছে, তাতে ‘নিখাদ’ দলের লোক ছাড়া আর কাউকেই রাখা হয়নি। প্রশ্নটা তখনই উঠেছিলো। তবে সে-সময় অপেক্ষার পালাটাও সক্রিয় ছিলো। তার পাশেই শাসকদলের কেউ কেউ ইঙ্গিতে বলছিলেন বটে, এবার ১৪ দলের শরিকদের বিরোধী দল হিসেবেই সংসদে বসতে হবে। তবে এবার দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খোলামেলাই বললেন যে, ওরা বিরোধী হলেই ভালো। আর সেখানেই মনে হয় অপেক্ষার পালাটা ফুরুলো শরিকদের।

যদিও শরিকরা এনিয়ে আলোচনার আগে কথায় যেতে চান না। ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, মঞ্জুর জাতীয় পার্টি থেকে এমনকি তরিকত ফেডারেশন অবধি এখনই কিছু বলতে চায় না। তবে তারা সবাই প্রায় একবাক্যেই প্রশ্ন তুলছেন, একই মার্কায় ভোট করে এখন বিরোধী দলের আসনে বসতে গেলে তা কতোটা বিধিসম্মত হবে।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিদায়ী মন্ত্রিসভার সদস্য রাশেদ খান মেননের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, “এব্যাপারে আমরা কোনো সিদ্ধান্ত নিইনি। তবে যাই করি না কেন, ১৪ দলের অংশীদার হিসেবে গণতন্ত্রের পক্ষেই ভূমিকা রাখবো।”

তবে জাতীয় পার্টির (জেপি-মঞ্জু) শেখ শহিদ সরাসরিই তুলে ধরেন আইনগত জটিলতার কথা। তিনি বলেন, “সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে যদি আমরা বিরোধী দলে যাই, তাহলে কারো তো সদস্যপদই থাকবে না। আমরা বিরোধীদলে যাবো কীভাবে?”

জোটের অংশীদার বামপন্থি দলগুলোর একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবিষ্যতের রাজনীতিতে তাদের বিরোধী দলের ভূমিকা নতুন কোনো মেরুকরণ আনতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রতিদিনই বিশ্লেষণ চলছে। বিরোধী দলে যাওয়ার পক্ষে যেমন মত আছে, তেমন বিপক্ষেও অনেকেই মত দিচ্ছেন। তবে পুরো বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার আগে কিছুতেই আশ্বস্ত হতে পারছেন না শরিক দলগুলোর নেতারা।

যদিও জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতারা বিষয়টিকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তাদের দুজন জানিয়েছেন, দুয়েক জন মন্ত্রী থাকলেও আগের দুটি সরকারই মূলত ছিলো আওয়ামী লীগের। সেই হিসেবে এবার খাটি আওয়ামী লীগের সরকার ১৪ দলের শরিকদের জন্য ভালো। কারণ সরকারের ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর আসবে না।

দুই নেতার একজন বলেন, “ বামপন্থিদের সংগঠন বাড়ানো জরুরি। কিন্তু সরকারের সঙ্গে এভাবে লেপ্টে থাকলে মানুষের কাছে সব সময় পৌঁছানো যায় না। সে কারণে বিরোধী দলে থাকলে এবার নতুন করে বামপন্থিরা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে।”

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: