• সংসদ প্রাণবন্ত করায় প্রাধান্য
  • সংসদীয় কমিটিকে অধিকতর কার্যকর করার উদ্যোগ

‘১৪ দল আওয়ামী লীগের আদর্শিক জোট। আর জাতীয় পার্টি কৌশলগত জোটের অংশ। তারা শুধু নির্বাচনি শরিক। কাজেই ১৪ দলের শরিকরা সংসদে কী ভূমিকায় থাকবেন সেটা আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করা হবে।’

ওবায়দুল কাদের
বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা

আন্দোলন ও নির্বাচনে যৌথযাত্রাকারী জোটের শরিকদের এবার সরকারে নয়, সংসদে বিরোধী দলের আসনে দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি আগেই স্পিকারকে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা বিরোধী দলে থাকতে চায় এবার। আর ১৪ দলীয় জোটের শরিকরা এখনো পর্যন্ত কিছু না জানালেও তাদেরকে বিরোধী দলেই দেখতে আগ্রহী আওয়ামী লীগ- এমন বার্তা দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলীয় মহাসমাবেশের প্রস্তুতিপর্ব পরিদর্শনে গিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে ১৪ দলের শরিকদের বিরোধী দলে থাকাই ভালো। আমাদের দল চায় সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবেন শরিক দলের এমপিরা। এতে সরকারের ভুল সংশোধন এবং সমালোচনার সুযোগ থাকবে।’

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা যায়, আগামী ৩০ জানুয়ারি নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের আগেই এ বিষয়ে শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবে আওয়ামী লীগ। সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সূত্র জানায়, এবারের নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিএনপি সংসদে যোগ নাও দিতে পারে, এমন আশঙ্কা আওয়ামী লীগের মধ্যে আগে থেকেই ছিলো। আর সে কারণেই এর আগের দুই মেয়াদে মন্ত্রিসভায় ১৪ দলের শরিকদের একাধিক নেতাকে স্থান দেয়া হলেও এবার ব্যতিক্রম ঘটে। এবারের সংসদটিকে প্রাণবন্ত হিসেবে দেখতে চায় আওয়ামী লীগ। সরকার এবং মন্ত্রণালয়ের কাজগুলো সত্যিকার অর্থে সংসদে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চায়। এজন্য সংসদীয় কমিটিগুলোকে শক্তিশালী করা, সংসদীয় কমিটির সভাপতিদের মর্যাদা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি সহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সংসদকে শক্তিশালী এবং ক্ষমতাবান করার লক্ষে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী। এরমধ্যে রয়েছে-  

  • সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে দলের সিনিয়র এবং গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের নিয়োগ দান। সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ মন্ত্রীর মর্যাদায় করা।
  • সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদে অন্তত কিছু কমিটিতে বিরোধীদল থেকে নিয়োগদান।
  • সংসদীয় কমিটির বৈঠক নিয়মিত করা এবং তাতে মন্ত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা।
  • বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারনী বিষয়গুলো সংসদীয় কমিটিতে আলোচনা এবং চুলচেরা বিশ্লেষণ করা।
  • মন্ত্রণালয়ের কাজ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংসদীয় কমিটির মন্ত্রণালয়ে নীরিক্ষা এবং পর্যবেক্ষনের ক্ষমতা।

প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একজন আওয়ামী লীগের নেতা বলেছেন,‘সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার একটি বড় কারণ হলো, সংসদীয় কমিটিগুলোকে ক্ষমতাবান করা। মন্ত্রণালয়গুলোকে সংসদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা।’ একই কারণে জোটের শরিকদেরও বিরোধী দলে দেখতে চায় আওয়ামী লীগ

অবশ্য এব্যাপারে ১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনই কিছু বলা যাবে না। কী হবে না হবে তা যথাসময়েই জানানো হবে। শুধু এটুকু বলি, ১৪ দল আদর্শিক জোট। কাজেই ভবিষ্যত রাজনীতির জন্য যেটা ভালো সেটাই করা হবে।”