Loading...
উত্তরকাল > বিস্তারিত > সবিশেষ > ধানের শীষের মনোনয়নে যুদ্ধাপরাধ-জঙ্গি অর্থায়ন মামলার আসামী

ধানের শীষের মনোনয়নে যুদ্ধাপরাধ-জঙ্গি অর্থায়ন মামলার আসামী

পড়তে পারবেন 3 মিনিটে

“বাবা মিথ্যা মামলায় বিদেশে পলাতক রয়েছেন;  কিন্ত দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে।”

যুদ্ধাপরাধ মামলার পলাতক আসামী মোমিন তালুকদার খোকার মেয়ে নাছিমা আক্তার লাকী

“মামলা থাকলেই অপরাধী নয়৷ সেটা আদালতে প্রমাণ হতে হয়৷”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু
বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জঙ্গিবাদে অর্থায়ন মামলার আসামী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের জন্য বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সই করা প্রত্যয়নপত্রসহ মনোনয়ন দাখিল করেছেন। 

বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি আবদুল মোমিন তালুকদার। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মাথায় নিয়ে তিনি পলাতক। স্বাধীনতাবিরোধী পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ নানা অপকর্ম করার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে।

জঙ্গিবাদে অর্থায়নের অভিযোগে বিচারের মুখে থাকা ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানাও বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ আসন থেকে।

এর বাইরে সারাদেশের অন্তত ২৫টি আসনে নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানো দল জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন। 

ফলে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট আর সংবেদনশীল এসব ইস্যুতে বিতর্কিত প্রার্থীরা অভিন্ন প্রতীকে ভোট করবেন। 

পরিচিতি তার ‘খোকা রাজাকার’:

একাদশ সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া-আদমদীঘি) আসনে আবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন যুদ্ধাপরাধ মামলার পলাতক আসামি আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকা।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন বুধবার খোকার পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন তার মেয়ে নাছিমা আক্তার লাকি।
এই আসনে খোকার বিকল্প হিসেবে তার স্ত্রী মাসুদা মোমিনও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মনোনয়ন দাখিল করেছেন খোকার ভাই মোহিত তালুকদারও।  

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন চাঁন জানান, তিনজনই বিএনপির প্রত্যয়নে মনোনয়ন দাখিল করেছেন।

খোকার মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার আশঙ্কা থেকে দলের শীর্ষ মহলের নির্দেশে এই বিকল্প প্রার্থিতা বলে জানান মাসুদা মোমিন। অর্থ্যাৎ ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী যেই হোক, তিনি এই পরিবারের সদস্যই হবেন।

পুলিশের নথি বলছে, বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মোমিন তালুকদার ওরফে ‘খোকা রাজাকার’ একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুণ্ঠনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত। হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য তিনি সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। আদমদীঘি থানার রাজাকার কমান্ডার হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির নেতৃত্ব দেন। জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি গঠিত হওয়ার পর ’৭৯ সাল থেকে বিএনপির মনোনয়নে একাধিকবার সাংসদ নির্বাচিত হন মোমিনের বাবা আবদুল মজিদ তালুকদার। ২০০১ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পান মোমিন। ১৯৭১ সালের ২৪ নভেম্বর মোমিন তালুকদারের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধা মুনসুরুল হক তালুকদার টুলু, আবদুস সাত্তার, আবদুল জলিল, আলতাফসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকার ক্যাম্পে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতনের পর গুলি করে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। এ বছরের ১৮ মে মোমিনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এরপর থেকেই তিনি পলাতক।

জঙ্গি অর্থায়নের আসামী যখন প্রার্থী:

একাদশ সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে ধানের শীষের একজন প্রার্থী হিসেবে প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হয়েছে ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানাকে। জঙ্গিবাদে অর্থায়নের একটি মামলায় তিনি বিচারের মুখে আছেন।

সাকিলার বাবা প্রয়াত সৈয়দ ওয়াহিদুল আলম এক সময় ওই আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন। সংসদে হুইপের দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদেও ছিলেন তিনি।

অবশ্য বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয় থেকে চট্টগ্রাম-৫ আসনে শাকিলার পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এস এম ফজলুল হককেও চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ধানের শীষ নিয়ে চূড়ান্ত বিবেচনায় সাকিলা ভোটের মাঠে নাও থাকতে পারেন।

জঙ্গি সংগঠন হামজা বিগ্রেডকে অর্থায়নের অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৮ আগস্ট ঢাকার ধানমণ্ডি থেকে গ্রেপ্তার করা হয় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাকিলাকে; তার দুই সহকর্মী আইনজীবীকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সেদিন। গ্রেপ্তারের পর তাদেরকে ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি বাঁশখালীর লটমনি পাহাড়ে জঙ্গি আস্তানা ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর হাটহাজারীর আবু বকর মাদ্রাসা থেকে ২০১৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি রাতে জঙ্গিদের ‘তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ পাওয়ার ঘটনায় হাটহাজারী থানায় সন্ত্রাস ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাদের। কয়েকদফা রিমান্ড শেষে সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে ২০১৬ সালের ৭ জুন কারাগার থেকে মুক্তি পান সাকিলা। হেফাজতে ইসলামের দুই কর্মীর কথায় ব্যারিস্টার সাকিলা ফারজানা শহীদ হামজা বিগ্রেডের সংগঠক মনিরুজ্জামান ডনের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এক কোটি আট লাখ টাকা দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনদের মনোনয়ন:

বিএনপির এবারের মনোনয়নের তালিকায় একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্তদের স্বজনরাও রয়েছেন। 

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীর পক্ষে পিরোজপুরে মনোনয়নপত্র জমা দেন আরেক ছেলে মাসুদ সাঈদী। ছবি কৃতজ্ঞতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন, পিরোজপুর-১ আসনে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে যাবজ্জীবন দণ্ডিত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদী, চট্টগ্রাম-৭ আসনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর ভাই গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও জয়পুরহাট-১ আসনে আবদুল আলীমের ছেলে ফয়সাল আলীম।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান খান দুদু অবশ্য এমনধারার মনোনয়নে দোষের কিছু দেখছেন না। জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলেকে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধে কেউ দণ্ডিত হলে তার সন্তান তো তার জন্য দায়ী নয়৷ তাদের তো দণ্ড হয়নি৷ সাঈদীর পুত্র জামায়াত করেন৷ জামায়াত তাকে মনোনয়ন দিয়েছে৷ জামায়াত ২০ দলীয় জোটে আছে৷ জোট ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছে৷ তাই সাঈদীর পুত্র ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছন৷’’

আরো পড়ুন : ‘বিতর্কিত’দের স্বজনে আস্থা আওয়ামী লীগের

সবশেষ আপডেট

উত্তরকাল

বিশ্বকে জানুন বাংলায়

All original content on these pages is fingerprinted and certified by Digiprove
%d bloggers like this: