পড়তে পারবেন 2 মিনিটে Berger Weather Coat

‘পঁচাত্তরের কালরাত না এলে বহু আগেই এদেশ বিশ্ব দরবারে উন্নত সমৃদ্ধ হিসেবে জায়গা করে নিতো।’

-শেখ হাসিনা
বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন

সব ধরনের ঝড়-ঝঞ্ঝা পেছনে ফেলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিখ্যাত কবি রবার্ট ফ্রস্টের একটি কবিতার লাইন উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দ্য উডস আর লাভলি, ডার্ক অ্যান্ড ডিপ, বাট আই হ্যাভ প্রমিজেস টু কিপ অ্যান্ড মাইলস টু গো, বিফোর আই স্লিপ…অ্যান্ড মাইলস টু গো…। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, শত অন্ধকার, অমানিশা ভেদ করে এগিয়ে যাবে। আমাদের আরও বহুদূর যেতে হবে।’

সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকেলে ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামনে নির্বাচন, ওই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিলে আবারও তাদের সেবায় ফিরে আসবো। দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো। আমরা দেশকে গড়ে তুলতে চাই, এ দেশ হবে উন্নত ও সমৃদ্ধ। যতই অন্ধকার হোক-তা পেছনে পেলে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই।

এ সময় তারুণ্যের কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘ছাড়পত্র’ থেকে আবৃত্তি করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘চলে যাব—তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ, প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল, এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি— নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।’ আগামীর শিশুর জন্য এ দেশ হবে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত ও সমৃদ্ধ একটি বাসযোগ্য দেশ। বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, জাতির পিতার ডাকে ‘যার যা কিছু আছে তা নিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিলো বাংলার মানুষ। স্বাধীনতার পর জাতির পিতা মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পেয়েছিলেন। এই সময়ে আমাদের সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। ‘তারই পদাঙ্ক অনুসরণ করে সশস্ত্র বাহিনীকে যুগোপযোগী ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা বিভিন্ন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’ শেখ হাসিনা বলেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের পর দেশের কোনো উন্নয়ন হয়নি। একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে তখন নানা উদ্যোগ নিই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান-সংস্থাকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে কাজ করি।’ ‘বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ, সশস্ত্র বাহিনী স্বাধীনতার প্রতীক; যে বাহিনী গড়ে ওঠেছিল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চলাকালীন সময়ে। একদিকে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছে তেমনি সকল বাহিনী একত্রিত করে এই সশস্র বাহিনী একুশে নভেম্বর গড়ে তোলা হয় সর্বাত্মক যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ার জন্য। যে যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করেছি।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জাতির পিতা সশস্র বাহিনীর উন্নয়নে  যুগোপযুগী করে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিই। পাঁচবছর ক্ষমতায় ছিলাম কতটুকু উন্নয়ন করেছি সেটা আপনারা উপলব্ধি করতে পারেন। এরপর থেকে আমরা আমাদের ইশতেহার ‘দিন বদলের সনদ’ অনুযায়ী কাজ করেছি- এটা আমরা দাবি করতে পারি। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলবার ঘোষণা দিয়েছিলোম, সেভাবে আমরা তা করেছি। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু দৃশ্যমান। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তবে, মহাকাশ জয় করেছি।’ দেশের মানুষের কাছে প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কতটুকু উন্নয়ন করেছি তা আপনারা অবশ্যই দেখছেন। আগে বাংলাদেশ ছিলো প্রাকৃতিক দুযোগের দেশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু ২০০৮ সালে সরকার গঠনের পর আমরা উন্নত দেশ গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করি। ‘২০১৪ সালে নির্বাচনে অগ্নিসন্ত্রাস থেকে শুরু করে জ্বালাও- পোড়াওয়ের মধ্য দিয়ে আবারও সরকার গঠন করি। এরপর মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য নানা পরিকল্পনা নিই। মানুষের জীবনমান উন্নত করতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে শুরু করে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি।’ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া আমার মানবিক কর্তব্য ও দায়িত্ব। আমরা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছি। তাদের (রোহিঙ্গা) খাদ্য, বাসস্থান থেকে শুরু করে সব কিছুতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, র‌্যাব, নৌবাহিনী, বিজিবিসহ অন্যান্য বাহিনী কাজ করেছে। অন্যান্য সংস্থাও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপদে নিজ দেশে ফেরাতে মিয়ানমারের সঙ্গে শান্তিপূর্ণভাবে কাজ করছি। অবশেষে তারা স্বীকার করে নিয়েছে। তিনি বলেন, আমরা বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি। ফলে কমংসংস্থান বেড়েছে। রফতানি যেনো বাড়ে সেজন্যও কাজ করেছি। দারিদ্র্যসীমা নামিয়ে আনা হয়েছে। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ সামরিক ও বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।